
নিজস্ব প্রতিবেদক, কথা২৪ | ঢাকা প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬
৫৩ কোটি টাকার একটি প্রশংসনীয় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্র্যাক, যা দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রান্তিক জনগণের সামাজিক সুরক্ষার লক্ষ্যে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে ১ লাখ ৩ হাজার কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করা হবে।
গতকাল রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্র্যাক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং কৃষি উপকরণের চড়া দামের কারণে ক্ষুদ্র কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ব্র্যাকের এই বিশেষ প্যাকেজের উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি কৃষি সহায়তায় ব্যয় হবে। এর মূল দিকগুলো হলো:
উপকরণ বিতরণ: ১ লাখ হাঁসের ছানা, ১ লাখ মুরগির বাচ্চা, ৫০ লাখ মাছের পোনা এবং ১ লাখ গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
প্রাণিসম্পদ সুরক্ষা: ২০ হাজার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হবে।
পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ: রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে ১ হাজারটি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন কেন্দ্র এবং ১০০টি পরিবেশবান্ধব আলু ও পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।
যান্ত্রিকীকরণ ও সেচ: কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে ১০০টি পাওয়ার টিলার ও ২০টি মাড়াই যন্ত্র সরবরাহ করা হবে। তাছাড়া ৫ হাজার পানিসাশ্রয়ী সেচপ্রযুক্তি বিতরণ করা হবে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ৩০% পানি সাশ্রয় করবে।
সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে ব্র্যাক তাদের ‘স্বপ্নসারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ কিশোরীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায়:
৭ হাজার ৮১০ জন তরুণীকে হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
৫ হাজার ২৪০ জন এসএসসি ও তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে।
হাওর অঞ্চলের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অত্যাধুনিক ল্যাবরুম স্থাপন করা হবে।
ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক অরিঞ্জয় ধর মন্তব্য করেন,
"আমরা সরাসরি উৎপাদন সক্ষমতায় বিনিয়োগ করছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো সদস্যদের প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা, যাতে তারা প্রতিকূল জলবায়ু ও বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারেন।"
কৃষি ছাড়াও সড়ক নিরাপত্তা, মাইগ্রেশন, আইনি সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। বিশেষ করে ভাসমান সবজি চাষ, মাশরুম ও মৌমাছি পালনের মতো উদ্ভাবনী কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
কথা২৪/বিভাগ: জাতীয়/অর্থনীতি
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।